ভিসার ধরন

ট্রানজিট ভিসার ডকুমেন্ট তালিকা

ভারত হয়ে তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার ভিসা। তৃতীয় দেশের ভিসা, ফেরার টিকিট আর হোটেল বুকিং, তিনটিই বাড়তি লাগে।

  • সর্বশেষ যাচাই:
ছবি: JESHOOTS.COM / Unsplash
  • ১১কাগজ মোট, অফিসিয়াল তালিকায়
  • ৭সবার জন্য এক
  • ৩এই ভিসার নিজস্ব
  • ১শুধু প্রযোজ্য হলে

কারা এই ভিসার জন্য আবেদন করবেন

যাঁরা ভারত হয়ে অন্য দেশে যাচ্ছেন। নেপাল ও ভুটানের মতো স্থলবেষ্টিত দেশের ক্ষেত্রে ডাবল এন্ট্রি ট্রানজিট ভিসা দেওয়া হয়, যাওয়া-আসা দুই দিকেই ভারতে ৩ দিন করে থাকার সুযোগ সহ। ভারতীয় বন্দর থেকে জাহাজে যোগ দিতে যাওয়া বাংলাদেশি নাবিকরাও এই ভিসায় আবেদন করেন।

ডকুমেন্ট চেকলিস্ট

টিক দেওয়া তথ্য শুধু আপনার নিজের ফোনেই থাকে, কোথাও পাঠানো হয় না, লগইনও লাগে না।

সবার জন্য যা লাগে ৭

  • মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ আবেদন জমা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত ৬ মাস থাকতে হবে এবং অন্তত ২টি ফাঁকা পাতা থাকতে হবে।

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    ৬ মাসের হিসাবটা জমা দেওয়ার দিন থেকে, ভ্রমণের দিন থেকে নয়। অনেকে ভ্রমণের তারিখ ধরে হিসাব করে ঠিক এখানেই ফেঁসে যান। ফাঁকা পাতা দুটি পুরোপুরি ফাঁকা হতে হবে; সিল-ছাপ পড়া পাতা গোনা হয় না।

    পাসপোর্টের মেয়াদ

    জমা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে

    সর্বশেষ যাচাই: সূত্র: hcidhaka.gov.in

    ফাঁকা পাতা

    পাসপোর্টে অন্তত ২টি ফাঁকা পাতা থাকতে হবে

    সর্বশেষ যাচাই: সূত্র: hcidhaka.gov.in

    সর্বশেষ যাচাই:

  • পুরনো পাসপোর্টগুলো আবেদন ফর্মের সাথে জমা দিতে হবে।

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পুরনোটা বাড়িতে ফেলে রাখা স্বাভাবিক, কিন্তু অফিসিয়াল তালিকায় এটি বাধ্যতামূলক। বের করে সাথে নিন। পুরনো পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা না থাকলে কী করতে হবে তা এই নথিতে লেখা নেই; সে ক্ষেত্রে আবেদন কেন্দ্রে জিজ্ঞেস করে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের এক কপি রঙিন ছবি (২×২ ইঞ্চি), সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে, পুরো মুখ দেখা যেতে হবে।

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    ২×২ ইঞ্চি মানে ৫১×৫১ মিলিমিটার (বর্গাকার)। বহু ব্লগে ৪৫×৩৫ মিমি লেখা থাকে, কিন্তু ওটা উল্টো ক্ষেত্রের স্পেক অর্থাৎ ভারতীয়দের বাংলাদেশি ভিসার মাপ। ছবির সংখ্যা: হাইকমিশনের নথি আর IVAC-এর ডকুমেন্ট পাতা দুটোতেই এক কপি লেখা। ছবিটি অনলাইন আবেদনে আপলোড করতে হয়, আর IVAC-এর পাতায় তার মাপ লেখা ২×২ (৩৫০×৩৫০ পিক্সেল)। IVAC-এর পাতায় ছবিটি “not less than 3 months old” লেখা। আক্ষরিক অর্থে এটি “কমপক্ষে ৩ মাসের পুরনো” বোঝায়, যা সম্ভবত উদ্দেশ্য নয়। আমরা অনুমান করে মীমাংসা করছি না; সাম্প্রতিক তোলা ছবি রাখাই নিরাপদ।

    ছবির মাপ

    ২×২ ইঞ্চি (৫১×৫১ মি.মি.), বর্গাকার, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, পুরো মুখ দেখা যেতে হবে

    সর্বশেষ যাচাই: সূত্র: hcidhaka.gov.in

    ছবির পিক্সেল মাপ

    অনলাইন আবেদনে আপলোড করা ছবির মাপ IVAC-এর পাতায় লেখা ২×২ (৩৫০×৩৫০ পিক্সেল)।

    সর্বশেষ যাচাই: সূত্র: ivacbd.com

    ছবির সংখ্যা

    এক কপি রঙিন ছবি। হাইকমিশনের অফিসিয়াল নথি আর IVAC-এর “Kind of Visas & Documents” পাতা, দুটোতেই এক কপি লেখা। কোথাও কোথাও দুই কপির কথা শোনা যায়, কিন্তু কোনো অফিসিয়াল সূত্রে আমরা তা পাইনি।

    সর্বশেষ যাচাই: সূত্র: ivacbd.com

    ছবির ফাইল

    jpg বা png, সর্বোচ্চ ২ মেগাবাইট

    সর্বশেষ যাচাই: সূত্র: ivacbd.com

    সর্বশেষ যাচাই:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি, যেটি প্রযোজ্য।

    এগুলোর যেকোনো একটি:

    • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
    • জন্মনিবন্ধন সনদের কপি
    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    নামের বানান পাসপোর্টের সাথে হুবহু মিলতে হবে। পরিচয়পত্র আর পাসপোর্টে নামের বানান আলাদা হলে সেটি আবেদন ফেরত আসার অন্যতম বড় কারণ। আগেভাগে দুটো পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে দেখুন।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • বিদ্যুৎ বিল অথবা গ্যাস বিল অথবা ল্যান্ডলাইন টেলিফোন বিলের কপি। নথিতে বন্ধনীতে লেখা আছে “not less than 6 months old”।

    এগুলোর যেকোনো একটি:

    • বিদ্যুৎ বিলের কপি
    • গ্যাস বিলের কপি
    • ল্যান্ডলাইন টেলিফোন বিলের কপি
    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    মোবাইল ফোনের বিল এই তালিকায় নেই, শুধু ল্যান্ডলাইন। আর বন্ধনীর শর্তটি অস্পষ্ট: “not less than 6 months old” আক্ষরিক অর্থে বলছে বিলটি অন্তত ৬ মাসের পুরনো হতে হবে, যদিও সাধারণত এ ধরনের শর্তে সাম্প্রতিক কাগজ চাওয়া হয়। অফিসিয়াল নথিতে এর বেশি ব্যাখ্যা নেই, তাই আমরা অনুমান করে কোনো একটি অর্থ বেছে নিচ্ছি না। সম্ভব হলে সাম্প্রতিক ও ৬ মাস আগের, দুটো বিলই সাথে রাখুন।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • নথিতে লেখা আছে: (i) গত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাতে পর্যাপ্ত টাকা দেখা যায়, (ii) আবেদনকারী প্রতি ১৫০ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট (জমা দেওয়ার সময় এনডোর্সমেন্ট তিন মাসের বেশি পুরনো হওয়া চলবে না) অথবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ট্রাভেল কার্ডের কপি।

    এগুলোর যেকোনো একটি:

    • গত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পর্যাপ্ত ব্যালান্স সহ
    • ১৫০ ডলার সমপরিমাণ মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট, তিন মাসের বেশি পুরনো নয়
    • আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ট্রাভেল কার্ডের কপি
    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    এই শর্তটির গঠন নিয়ে সতর্ক থাকুন। ২০২৪ সালের নথিতে ব্যাংক স্টেটমেন্টকে (i) হিসেবে আলাদা করে লেখা হয়েছে, ফলে এটি পড়ে মনে হতে পারে স্টেটমেন্ট ও এনডোর্সমেন্ট দুটোই লাগবে। কিন্তু হাইকমিশনের আগের সংস্করণে (২০২১) তিনটিই “OR” দিয়ে বিকল্প হিসেবে লেখা ছিল। কোন পাঠটি এখন প্রযোজ্য তা নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। নিরাপদ পথ হলো ব্যাংক স্টেটমেন্ট সাথে রাখা, কারণ সেটি দুই পাঠেই কাজে লাগে।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • আপনার পেশা অনুযায়ী নিচের যেকোনো একটি কাগজ।

    এগুলোর যেকোনো একটি:

    • সরকারি চাকরিজীবী হলে: গভর্নমেন্ট অর্ডারের কপি
    • বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে: নিয়োগকর্তার দেওয়া সনদ
    • স্বনিয়োজিত হলে: বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের কপি
    • শিক্ষার্থী হলে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্রের কপি
    • অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী হলে: অবসরের কাগজপত্রের কপি
    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    যে কাগজটি আপনার পেশার সাথে মেলে সেটিই দিতে হবে। গৃহিণী, বেকার বা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আলাদা কোনো বিকল্প এই তালিকায় নেই, তাই সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রে জিজ্ঞেস করে নিন। স্টুডেন্ট ভিসার তালিকায় বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নিয়োগকর্তার সনদের বদলে বেতন স্লিপও গ্রহণযোগ্য বলা আছে।

    সর্বশেষ যাচাই:

এই ভিসার জন্য বাড়তি যা লাগে ৪

  • যে দেশে যাচ্ছেন সেই তৃতীয় দেশের বৈধ ভিসা থাকতে হবে।

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    ট্রানজিট ভিসার পুরো ভিত্তিই হলো আপনি ভারতে থামছেন না, পার হচ্ছেন। গন্তব্য দেশের ভিসা না থাকলে সেই যুক্তি দাঁড়ায় না, তাই আগে গন্তব্যের ভিসা নিন, তারপর ট্রানজিটের আবেদন করুন।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • পরবর্তী যাত্রার নিশ্চিত করা টিকিট।

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    “নিশ্চিত করা” শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ: সাময়িক বুকিং বা হোল্ড করা টিকিট নয়, ইস্যু করা টিকিট।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • তৃতীয় দেশে হোটেল বুকিং।

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    বুকিংটি গন্তব্য দেশের, ভারতের নয়। এখানেই অনেকে ভুল করে ভারতের হোটেলের কাগজ জমা দেন।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • ভারতীয় বন্দর থেকে জাহাজে যোগ দিতে যাওয়া বাংলাদেশি নাবিকদের ক্ষেত্রে ভিসা ম্যানুয়ালের আলাদা বিধান প্রযোজ্য। এতে DG-Shipping এর বিশেষ অনুমতি, সিম্যান বুক ইত্যাদির কথা বলা আছে।

    শুধু প্রযোজ্য যদি: আপনি নাবিক এবং ভারতীয় বন্দর থেকে জাহাজে যোগ দিতে যাচ্ছেন

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    অফিসিয়াল তালিকা এখানে পূর্ণ কাগজপত্রের তালিকা দেয় না, ভিসা ম্যানুয়ালের দিকে পাঠিয়ে দেয় (“etc.” লিখে শেষ করা হয়েছে)। তাই এটিকে চূড়ান্ত তালিকা ধরবেন না। নাবিক হলে কেন্দ্রে গিয়ে পূর্ণ তালিকা জেনে নিন।

    সর্বশেষ যাচাই:

এই তালিকার সূত্র

পুরো তালিকাটি ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকার প্রকাশিত “VISA DOCUMENTS: CATEGORY-WISE” নথি থেকে নেওয়া। নথিটির তারিখ ৭ মার্চ, ২০২৪, আর আমরা সর্বশেষ মিলিয়ে দেখেছি ৩ আগস্ট, ২০২৬। নিচের লিংক থেকে আপনি নিজেও মিলিয়ে নিতে পারেন।

অফিসিয়াল নথিটি খুলুন (PDF)2. TRANSIT VISA

অন্যান্য ভিসার ধরন