ভিসার ধরন

মেডিকেল ভিসার ডকুমেন্ট তালিকা

চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার ভিসা (MV)। স্থানীয় ডাক্তারের কাগজ আর ভারতীয় হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, দুটোই লাগে। সাথে যাওয়া ব্যক্তির জন্য আলাদা অ্যাটেনডেন্ট ভিসা (MX)।

  • সর্বশেষ যাচাই:
ছবি: Usman Yousaf / Unsplash
  • ১২কাগজ মোট, অফিসিয়াল তালিকায়
  • ৭সবার জন্য এক
  • ২এই ভিসার নিজস্ব
  • ৩শুধু প্রযোজ্য হলে

কারা এই ভিসার জন্য আবেদন করবেন

যাঁরা ভারতে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন, এবং যাঁরা রোগীর সাথে যাচ্ছেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর সাথে বাবা-মা বা অভিভাবকের মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে যাওয়া বাধ্যতামূলক। অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র লাগে।

ডকুমেন্ট চেকলিস্ট

টিক দেওয়া তথ্য শুধু আপনার নিজের ফোনেই থাকে, কোথাও পাঠানো হয় না, লগইনও লাগে না।

সবার জন্য যা লাগে ৭

  • মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ আবেদন জমা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত ৬ মাস থাকতে হবে এবং অন্তত ২টি ফাঁকা পাতা থাকতে হবে।

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    ৬ মাসের হিসাবটা জমা দেওয়ার দিন থেকে, ভ্রমণের দিন থেকে নয়। অনেকে ভ্রমণের তারিখ ধরে হিসাব করে ঠিক এখানেই ফেঁসে যান। ফাঁকা পাতা দুটি পুরোপুরি ফাঁকা হতে হবে; সিল-ছাপ পড়া পাতা গোনা হয় না।

    পাসপোর্টের মেয়াদ

    জমা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে

    সর্বশেষ যাচাই: সূত্র: hcidhaka.gov.in

    ফাঁকা পাতা

    পাসপোর্টে অন্তত ২টি ফাঁকা পাতা থাকতে হবে

    সর্বশেষ যাচাই: সূত্র: hcidhaka.gov.in

    সর্বশেষ যাচাই:

  • পুরনো পাসপোর্টগুলো আবেদন ফর্মের সাথে জমা দিতে হবে।

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পুরনোটা বাড়িতে ফেলে রাখা স্বাভাবিক, কিন্তু অফিসিয়াল তালিকায় এটি বাধ্যতামূলক। বের করে সাথে নিন। পুরনো পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা না থাকলে কী করতে হবে তা এই নথিতে লেখা নেই; সে ক্ষেত্রে আবেদন কেন্দ্রে জিজ্ঞেস করে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের এক কপি রঙিন ছবি (২×২ ইঞ্চি), সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে, পুরো মুখ দেখা যেতে হবে।

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    ২×২ ইঞ্চি মানে ৫১×৫১ মিলিমিটার (বর্গাকার)। বহু ব্লগে ৪৫×৩৫ মিমি লেখা থাকে, কিন্তু ওটা উল্টো ক্ষেত্রের স্পেক অর্থাৎ ভারতীয়দের বাংলাদেশি ভিসার মাপ। ছবির সংখ্যা: হাইকমিশনের নথি আর IVAC-এর ডকুমেন্ট পাতা দুটোতেই এক কপি লেখা। ছবিটি অনলাইন আবেদনে আপলোড করতে হয়, আর IVAC-এর পাতায় তার মাপ লেখা ২×২ (৩৫০×৩৫০ পিক্সেল)। IVAC-এর পাতায় ছবিটি “not less than 3 months old” লেখা। আক্ষরিক অর্থে এটি “কমপক্ষে ৩ মাসের পুরনো” বোঝায়, যা সম্ভবত উদ্দেশ্য নয়। আমরা অনুমান করে মীমাংসা করছি না; সাম্প্রতিক তোলা ছবি রাখাই নিরাপদ।

    ছবির মাপ

    ২×২ ইঞ্চি (৫১×৫১ মি.মি.), বর্গাকার, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, পুরো মুখ দেখা যেতে হবে

    সর্বশেষ যাচাই: সূত্র: hcidhaka.gov.in

    ছবির পিক্সেল মাপ

    অনলাইন আবেদনে আপলোড করা ছবির মাপ IVAC-এর পাতায় লেখা ২×২ (৩৫০×৩৫০ পিক্সেল)।

    সর্বশেষ যাচাই: সূত্র: ivacbd.com

    ছবির সংখ্যা

    এক কপি রঙিন ছবি। হাইকমিশনের অফিসিয়াল নথি আর IVAC-এর “Kind of Visas & Documents” পাতা, দুটোতেই এক কপি লেখা। কোথাও কোথাও দুই কপির কথা শোনা যায়, কিন্তু কোনো অফিসিয়াল সূত্রে আমরা তা পাইনি।

    সর্বশেষ যাচাই: সূত্র: ivacbd.com

    ছবির ফাইল

    jpg বা png, সর্বোচ্চ ২ মেগাবাইট

    সর্বশেষ যাচাই: সূত্র: ivacbd.com

    সর্বশেষ যাচাই:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি, যেটি প্রযোজ্য।

    এগুলোর যেকোনো একটি:

    • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
    • জন্মনিবন্ধন সনদের কপি
    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    নামের বানান পাসপোর্টের সাথে হুবহু মিলতে হবে। পরিচয়পত্র আর পাসপোর্টে নামের বানান আলাদা হলে সেটি আবেদন ফেরত আসার অন্যতম বড় কারণ। আগেভাগে দুটো পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে দেখুন।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • বিদ্যুৎ বিল অথবা গ্যাস বিল অথবা ল্যান্ডলাইন টেলিফোন বিলের কপি। নথিতে বন্ধনীতে লেখা আছে “not less than 6 months old”।

    এগুলোর যেকোনো একটি:

    • বিদ্যুৎ বিলের কপি
    • গ্যাস বিলের কপি
    • ল্যান্ডলাইন টেলিফোন বিলের কপি
    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    মোবাইল ফোনের বিল এই তালিকায় নেই, শুধু ল্যান্ডলাইন। আর বন্ধনীর শর্তটি অস্পষ্ট: “not less than 6 months old” আক্ষরিক অর্থে বলছে বিলটি অন্তত ৬ মাসের পুরনো হতে হবে, যদিও সাধারণত এ ধরনের শর্তে সাম্প্রতিক কাগজ চাওয়া হয়। অফিসিয়াল নথিতে এর বেশি ব্যাখ্যা নেই, তাই আমরা অনুমান করে কোনো একটি অর্থ বেছে নিচ্ছি না। সম্ভব হলে সাম্প্রতিক ও ৬ মাস আগের, দুটো বিলই সাথে রাখুন।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • নথিতে লেখা আছে: (i) গত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাতে পর্যাপ্ত টাকা দেখা যায়, (ii) আবেদনকারী প্রতি ১৫০ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট (জমা দেওয়ার সময় এনডোর্সমেন্ট তিন মাসের বেশি পুরনো হওয়া চলবে না) অথবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ট্রাভেল কার্ডের কপি।

    এগুলোর যেকোনো একটি:

    • গত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পর্যাপ্ত ব্যালান্স সহ
    • ১৫০ ডলার সমপরিমাণ মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট, তিন মাসের বেশি পুরনো নয়
    • আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ট্রাভেল কার্ডের কপি
    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    এই শর্তটির গঠন নিয়ে সতর্ক থাকুন। ২০২৪ সালের নথিতে ব্যাংক স্টেটমেন্টকে (i) হিসেবে আলাদা করে লেখা হয়েছে, ফলে এটি পড়ে মনে হতে পারে স্টেটমেন্ট ও এনডোর্সমেন্ট দুটোই লাগবে। কিন্তু হাইকমিশনের আগের সংস্করণে (২০২১) তিনটিই “OR” দিয়ে বিকল্প হিসেবে লেখা ছিল। কোন পাঠটি এখন প্রযোজ্য তা নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। নিরাপদ পথ হলো ব্যাংক স্টেটমেন্ট সাথে রাখা, কারণ সেটি দুই পাঠেই কাজে লাগে।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • আপনার পেশা অনুযায়ী নিচের যেকোনো একটি কাগজ।

    এগুলোর যেকোনো একটি:

    • সরকারি চাকরিজীবী হলে: গভর্নমেন্ট অর্ডারের কপি
    • বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে: নিয়োগকর্তার দেওয়া সনদ
    • স্বনিয়োজিত হলে: বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের কপি
    • শিক্ষার্থী হলে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্রের কপি
    • অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী হলে: অবসরের কাগজপত্রের কপি
    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    যে কাগজটি আপনার পেশার সাথে মেলে সেটিই দিতে হবে। গৃহিণী, বেকার বা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আলাদা কোনো বিকল্প এই তালিকায় নেই, তাই সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রে জিজ্ঞেস করে নিন। স্টুডেন্ট ভিসার তালিকায় বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নিয়োগকর্তার সনদের বদলে বেতন স্লিপও গ্রহণযোগ্য বলা আছে।

    সর্বশেষ যাচাই:

এই ভিসার জন্য বাড়তি যা লাগে ৫

  • রোগ বা শারীরিক অবস্থার সপক্ষে স্থানীয় ডাক্তারের প্রয়োজনীয় মেডিকেল কাগজপত্র, সাথে মেডিকেল রিপোর্ট।

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    অফিসিয়াল নথিতে রিপোর্টের বয়সের কোনো সীমা লেখা নেই। “রিপোর্ট ৬ মাসের বেশি পুরনো হওয়া চলবে না”, এই কথাটি বিভিন্ন ব্লগে পাওয়া যায়, কিন্তু হাইকমিশনের নথিতে তার সমর্থন নেই। তাই আমরা এটিকে নিয়ম হিসেবে ছাপছি না; সাম্প্রতিক রিপোর্ট নেওয়াই স্বাভাবিক বুদ্ধি, কিন্তু সেটি নিয়ম নয়।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • ভারতীয় হাসপাতালের বৈধ অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, যাতে রোগী ও সাথে যাওয়া ব্যক্তির নাম ও পাসপোর্টের তথ্য, অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ এবং ডাক্তারের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    লক্ষ করুন, চিঠিতে সাথে যাওয়া ব্যক্তির (অ্যাটেনডেন্ট) নাম ও পাসপোর্টের তথ্যও থাকতে হবে। শুধু রোগীর নাম থাকলে চলবে না। হাসপাতালকে চিঠি চাওয়ার সময় এই কথাটি স্পষ্ট করে বলুন, নইলে সংশোধন করাতে সময় নষ্ট হবে।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রেও মেডিকেল ভিসা (MV) এবং মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা (MX) নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

    শুধু প্রযোজ্য যদি: আপনার অফিসিয়াল পাসপোর্ট আছে

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    নথিতে শব্দটি “advisable” অর্থাৎ পরামর্শ, বাধ্যবাধকতা নয়। তবু অফিসিয়াল পাসপোর্ট থাকলেও চিকিৎসার জন্য গেলে এই ভিসাই নেওয়া নিরাপদ।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর সাথে বাবা-মা বা অভিভাবককে মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে যেতে হবে।

    শুধু প্রযোজ্য যদি: রোগী অপ্রাপ্তবয়স্ক

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    এখানে শব্দটি “compulsorily”, অর্থাৎ এটি পরামর্শ নয়, বাধ্যতামূলক। শিশুর চিকিৎসার আবেদন করলে অভিভাবকের অ্যাটেনডেন্ট ভিসার আবেদনও একই সাথে করতে হবে।

    সর্বশেষ যাচাই:

  • অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে (যেমন কিডনি, লিভার ইত্যাদি) আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOFA) থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র।

    শুধু প্রযোজ্য যদি: চিকিৎসাটি অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত

    কেন লাগে, কোথায় ভুল হয়

    দুই মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র জোগাড়ে সময় লাগে, তাই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা থাকলে ভিসার আবেদনের অনেক আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করুন।

    সর্বশেষ যাচাই:

এই তালিকার সূত্র

পুরো তালিকাটি ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকার প্রকাশিত “VISA DOCUMENTS: CATEGORY-WISE” নথি থেকে নেওয়া। নথিটির তারিখ ৭ মার্চ, ২০২৪, আর আমরা সর্বশেষ মিলিয়ে দেখেছি ৩ আগস্ট, ২০২৬। নিচের লিংক থেকে আপনি নিজেও মিলিয়ে নিতে পারেন।

অফিসিয়াল নথিটি খুলুন (PDF)4. MEDICAL VISA

অন্যান্য ভিসার ধরন